আনহা এফ খান প্রশ্ন করেছেন পুলিশের প্রতিদিনকার হয়রানীর একটি ধরণকে। নারী-পুরুষ একসাথে বসে থাকার ‘অপরাধে’ গার্মেন্টসকর্মী পুরষটিকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ধারণ করা এই ভিডিওটিতে পরিস্কার, রাষ্ট্র কাকে নাগরিক মনে করে আর কাকে মনে করে না।

 

আনহা এফ খান

মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের পুলিশ কনভেনশন হলের সামনের রাস্তাটি নিরিবিলি ও চওড়া ফুটপাথের। বিকাল-সন্ধায় এখানে আশপাশ থেকে মানুষেরা আসে, বসে, গল্প করে, প্রেম করে, হাঁটে, দৌঁড়ায়।সম্প্রতি সেখানে আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে, যে সময়টায় আশপাশের বেশ কিছু গার্মেন্টস ছুটি হওয়ায় কর্মজীবী নারী পুরুষেরা দল বেঁধে কিংবা জোড়ায় জোড়ায় ভীড় বাড়ায় ‘পাবলিক স্পেস’টিতে, সেসময় সেখানে বসে গল্পরত এক জোড়া ছেলেমেয়ের মধ্যে থেকে ছেলেটিকে রং সাইড দিয়ে আসা একটি লেগুনায় টহলরত পুলিশ গাড়িতে তোলে। লেগুনায়  ইউনিফর্ম পরিহিত দুইজন ও সাদা পোশাকের এক পুলিশ সদস্যের সাথে তাৎক্ষণিক কথা বলতে গিয়ে দেখতে পাই পুলিশের হাতে ছেলেটির মানিব্যাগ, মন দিয়ে তিনি মানিব্যাগ ঘাটছেন, আরেকজন লাঠি দিয়ে ছেলেটির পায়ে আঘাত করছে। আর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করছে একজন নারী সঙ্গী নিয়ে বসে থাকাকে।

আমরাও কয়েকজন  লেগুনার কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা জানতে চান আমরা কারা। উত্তর দিই, আমরা নাগরিক, আমরাও ঘুরতে আসি, হাঁটতে আসি এখানে। কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন, “পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে, পুলিশ জানে ওর কি অপরাধ, আপনাদেরকে বলতে হবে কেন?”

কথা শেষ হওয়ার আগেই রং সাইডেই গাড়ি ইউটার্ণ করে সোজা চলে যায় কাফরুল থানার দিকে। আমরাও হেঁটে হেঁটে যেতে থাকি থানার দিকে। থানায় বেশ খানিক অপেক্ষার পর কার সাথে কথা বলতে হবে জেনে আমরা পেলাম গ্রেফতারকারী পুলিশ সদস্যকে।

ততক্ষণে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগে মামলা দেয়ার গর্জন শোনা যায় থানার ভেতরে। কিন্তু ‘ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার কেন’, ‘আগে গ্রেফতার করে পরে মামলা কেন’ এই জাতীয় সবচেয়ে জরুরী অথবা সবচেয়ে ডালভাত প্রশ্ন কিংবা তর্কগুলো এড়িয়ে কথা বলতে চেষ্টা করি ছেলেটাকে ঠিক কোন কারণে আটক করা হয়েছে।

চলুন দেখি ভিডিও

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.